পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আফগান+ভারত+বাঙ্গু তালুবালু + লীগ একই সুর সেই ন্যারিটিভ গুলো এক বাক্যে কি কি স্লোগান “র“ এর অফিস থেকে ছড়ানো হয়।
1. পাকিস্তান আমেরিকার গোলাম 

অথচ এই পাকিস্তানের আইএসআই এর গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে গেরিলা যুদ্ধ করে তালেবান আমেরিকাকে পরাস্ত করে। তখন এদের কাছে মেরিকার গোলাম ছিলো না।
2. টিটিপির পাকিস্তানের অভ্যন্তরের বিষয় এখানে আফগানস্তানের কোন হাত নেই 

অথচ শত শত প্রমাণ আছে আফগান তালেবান সরকার টিটিপিকে তার দেশে আশ্রয় প্রশয় দিয়েছে যা আমরা ইতিমধ্যে আমাদের পেইজে বহু প্রমাণ সহ পোস্ট দিয়েছি ।
3. টিটিপি নাকি সব পাকিস্তানের নাগরিক 
অথচ প্রতিদিন পাকিস্তানের সীমান্ত পাড়ি দিতে গিয়ে টিটিপির সদস্যরা মরে । পরে দেখা যায় যা সব আফগানস্তানের পশতু নাগরিক । বিশেষ করে নিহতরা সবাই তালেবান পন্থী। তবে হ্যা কিছু পাকিস্তানের নাগরিকও আছে কিন্তু এরা টিটিপির জনবলের মাত্র 10%
4. বাগরাম ঘাটির জন্য নাকি পাকিস্তান আফগানস্তানে আক্রমণ করেছে 

অথচ সেটা ছিলো টিটিপির আক্রমণ বেড়ে যাওয়া টিটিপি দমন করতে পাকিস্তান আক্রমণ করেছে । ট্রাম্প যেদিন বাগরাম ঘাটি প্রসঙ্গ তুলেছে সেদিন আফগানস্তান একটি সামিট করে তার দেশে সেখানে পাকিস্তানও অংশগ্রহণ করে পাকিস্তান সুপষ্ট ভাবে ট্রাম্পের অবৈধ বক্তব্যের বিরুধীতা করে।
5. পাকিস্তান নাকি আফগানস্তানের ট্রেড রুট বন্ধ করে দিয়েছে 

অথচ আফগানস্তান প্রথমেই আগ বাড়ায় পাকিস্তানের গোয়াদার পোর্ট এর বিপরীতে ইরানের চাহাবার পোর্ট ব্যবহার এর সিদ্ধান্ত নেয়। ইরান আমেরিকা যুদ্ধে চাহাবাহার পোর্ট নিরাপত্তা সংকটে কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়ে। এবং দিনশেষে আফগানস্তানের প্রচুর ক্ষতি হয়। আর ভারত যেমনটা আফগানস্তানকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো সেটাও প্রতিফলিত হয়নি। আন্তজার্তিক পররাষ্ট্রনীতিতে আফগানস্তানের বড় ধাক্কা।
6. টিটিপি নাকি পুরো পাকিস্তান দখল করে শরীয় কায়েম করবে 

অথচ টিটিপি উদ্দেশ্য শুধু পশতু জাতিয়তাবাদ খাইবার পাখতুন খোয়া আর বেলুচস্তান নিয়ে গ্রেটার আফগানস্তান করা । বেলুচরা কমিনিজম বিশ্বাসী আর টিটিপিরা পশতু জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী। এই দুই গ্রুপ আবার আফগান মাটিতে বসে এক সাথে এস্কেসসাইজ করে
তাও আবার ভারত মালুদের অর্থে । ওদের শরীয়া যে মাওবাদী থেকে উদ্ধত্ব নাকি হিন্দুত্ববাদী থেকে আপনারাই বলেন। আর বাকি পাঞ্জাব সিন্দু কাস্মির ভারতকে দিয়ে দিবে।
7. বেলুচস্তান কালকেই স্বাধীন হয়ে গেল 
অথচ বেলুচ জনগন 1.5 কোটি তার মধ্যে 5 থেকে 10 হাজার তাদের টপ টপ লিডার রা আফগানস্তানে পলাতক আফগানস্তান থেকে তাদের কার্যক্রম গহীন পাহাড়ি সীমান্ত পাড়ি দিয়ে গেরিলা চোরাগোপ্ত হামলা করে আফগানস্তানে পালিয়ে যায়। আর যারা পালাতে গিয়ে ধরা খায় তারা মুলত পাক বাহিনীর হাতে মারা খারা। যেসব খবর আমরা প্রতিনিয়ত শুনি।
8. পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়ে ভালই হয়েছি আমাদের দেশে কোন বিচ্ছিন্নতাবাদী নাই আলহামদুল্লিাহ বানীতে সুশীল মডারেট , দাড়ি টুপিয়ালা মুশরিক 
শোন ভারত কখনোই একসাথে দুই দিকে ঝুকি নেবে না। তোর দেশে বিচ্ছিন্নতাবাদী নাই ইতিহাসের পাতা খুলে দেখ বঙ্গভূমি হিন্দু ও হিন্দুত্ববাদীদের কি নিকৃষ্ট পরিকল্পনা ছিলো , কুকি ল্যান্ড পাহাড়ে , ইউপিডিএফ , জেএসএস তৎপরতা কি ভয়াবহ পাহাড়ে থাকা নিরীহ বাঙ্গালীদের কাছে শুনে নিস। এখন বাংলাদেশে যদি ইউপিডিএফ , জেএস এস উস্কে দেয় তাহলে ভারতের দুই দিকে ঝুকি তৈরি হবে। কারণ বাংলাদেশে জাতি বৈচিত্র নেই সবাই জাতিগত ভাবে বাংলা ভাষাভাষী তাই পার পাবে না। আর পাকিস্তান টিকে থাকলে তো বাংলাদেশে ভারতের শকুনের দৃষ্টিতে কখনোই তাকাতে পারবে না। এজন্য ভারত ইউপিডি , জে এস এসকে চূড়ান্ত গ্রিন সিগনাল দিচ্ছে না। তাই ভারত মূলত পাকিস্তানকে সব্বোর্চ্চ টার্গেট করছে। ওইটা একবার শেষ করতে পারলে বাংলাদেশ এমনিতেই অখন্ড ভারতের অংশ।
আর এটাই মূলত দেওবন্দীরা চায়। কারণ ভারতের দেওবন্দিরা পাকিস্তান আন্দোলনে যোগ না দিয়ে অনেক বড় ভুল করেছে। এখন ভারতের সাধারণ মুসলিমরা বিষয়টা বুঝতে পারছে তারাই বলে আমরা পাকিস্তান আন্দোলনে যোগ না দিয়ে ভুল করেছি । ভারতের সাধারণ মুসলিমরা এখন দেওবন্দিদের ভারত সরকারের দালাল মনে করে এবং ঐতিহাসিক বাস্তবতাও তাই দেওবন্দের বড় বড় আকাবীররা ভারত সরকার কতৃক সুযোগ সুবিধা নিয়ে থাকে কিন্ত ভারতে সাধারন মুসলিম রক্ষায় ভারতে দেওবন্দিরা চরম ব্যর্থ । এই দেওবন্দীরা নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে পাকিস্তানকে নাপাকিস্তান বলে জিন্নাহকে গালাগালি করে। এবং কি আফগানস্তানের দেওবন্দিদের পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছে। আর আর বাংলাদেশে দেওবন্দিদের লেলিয়ে দিয়েছে যারা বাংলাদেশে ভারতবিরুধী কেন্দ্র শক্তি। এই দেওবন্দীরা হিন্দুদের সাথে নরম কিন্তু মুসলমানদের সাথে গরম।
9. আফগান মেডিকেল শিক্ষার্থীদের বহিস্কার করেছে পাকিস্তান সরকার পাক সরকার আফগানদের চাপে রাখতে চায়। 
অথচ ওই মেডিকেল শিক্ষার্থীরা পাকিস্তানে বসে পাকিস্তানের প্রদেশকে আফগানস্তানের বলে দাবি করে। এখন আপনিই বলেন বাংলাদেশে বসে যদি কোন ভারতীয় শিক্ষার্থী বাংলাদেশের কোন বিভাগ বা জেলাকে ভারতের অংশ বলে দাবি করে তাহলে কি বহিঃষ্কার করত না ? এই হলো দেশী বালকায়দা গ্রুপ অফ কোম্পানীর সো কলড প্রোপাগান্ড ন্যারেটিভ
10 . সবচেয়ে বড় ন্যারেটিভ হলো পাকিস্তান যত মুসলিম হত্যা পৃথিবীতে কোন ইহুদী খ্রীষ্টান দেশও এত মুসলিম হত্যা করেনি। 

ভাই এই ন্যারেটিভ টা এতই হাস্যকর যে কি বলবো। বিচ্ছিন্নতাবাদ , খারেজী , বাগী , মুনাফেকদের জাহান্নামে পাঠায় দেওয়া ইসলামে পূন্যের কাজ । তারপরও কয় লাখ মারছে তার আজ পর্যন্তু প্রমাণ দিতে পারে নি হিন্দু , বালকায়দা জঙ্গী , লীগার , ভারত রা ।
------------------------------------------------------
শেষ কিছু কথা মুসলিমদের অধপতনের জন্য শুধু আমরা অমুসলিম হিন্দু, ইহুদী , খ্রীস্টানদের দায়ী করি বিষয়টা একদম সঠিক না তারা চাইবে আমাদের ক্ষতি করার জন্য কিন্তু আমরা নিজ নিজ দল মত ব্যক্তি স্বার্থে তাদের সাথে হাত মিলাই যার ফল ভোগ করতে হয় পুরো মুসলিম উম্মাহ কে।
তালেবান কে এখনো ভারত স্বীকৃতি দেয় নাই। গত চল্লিশ বছরে ভারত আফগানদের জন্য কি করেছে সেটাও দেখা হয়েছে । তালেবানকে উগ্র জঙ্গি সংগঠন বলা ভারত আজ তালেবানের আস্থাভাজন । আর যেই তালেবান পাকিস্তানের আশ্রিত পালিত পাকিস্তানের সহযোহিতায় আমেরিকাকে আফগান ভূখন্ড থেকে চলে যেতে বাধ্য করেছে সে তালিবান এখন শত্রু বানায় পাকিস্তানের আবার গত বিশ বছর এন্টি তালেবান গ্রুপ যারা ছিলো প্রো ভারতপন্থী যেমন এনআরএফ , সহ ডজন খানেক গোষ্ঠী তারা এখন পাকিস্তানের আস্থাভাজন হতে চায়।
বর্তমানে এন্টি তালেবানের গ্রুপ সমূহের নাম:
আফগানস্তান ফ্রিডম ফ্রন্ট
আফগানস্তান ইউনাইটেড ফ্রন্ট
নরদান এলাইয়েন্স ফ্রন্ট এনআরএফ
বাদাক শাহ প্রদেশে একজন নেতা জুম্মা খান।
উজবেক হাজারা সহ আরো ছোট ছোট এন্টি তালেবান গ্রুপ তালিবানের বিরুদ্ধে দাড়িয়েছে।
যাই হোক , এক্সপোজ 71 এডমিন রক্তপাত যুদ্ধ, উগ্রতা ইসলামের নামে ভন্ডামি , ইসলামের নামে মুনাফিকি এগুলো কিছুই চায় না। রক্তপাত যুদ্ধ দীর্ঘমেয়াদী শান্তি স্থীতিশীলতাকে খর্ব করে ।