বিহারি মুসলিম গনহত্যা ১৯৭১


ব্লাড এন্ড টিয়ার্স
কুতুব উদ্দিন আজিজ



এই বইয়ের কিছু রেফারেন্স নিচে দেওয়া হয়েছে এবং পিনাকি ভট্টাচার্যের এই ভিডিওটিতে বিস্তারিত বর্ননা করা হয়েছে।


২৫ শে মার্চের আগে ও পরে || Pinaki Bhattacharya || The Untold 




----------------------------------------------------------------------------------------------- 


কি এমন ঘটেছিল যে ১৯৭১ সালে ২৬ মার্চ অপারেশন সার্চ লাইট নাজিল হয়?
এক কথায় ১৯৭১ সালে মার্চের শুরু থেকে অসহযোগ আন্দোলন এর নামে বিহারী মুসলিম হত্যার শিকার হয়েছেন ২লাখ এর প্রেক্ষিতে নেমে আসে অপারেশন সার্চ লাইট,,
সেই ঘটনা গুলো ধারাবাহিক ভাবে তুলে ধরাই আমাদের লক্ষ্য উদ্দেশ্য,
আজকে তুলে ধরব রাজশাহী বিভাগের পাকসি এলাকার সামগ্রিক দূর্ভোগ নিয়ে, )
(১১৪) একশো চৌদ্দতম সাক্ষীর বিবরণ:
১৯৭১ সালের ৯ এপ্রিল পাকসিতে
অবাঙালি হত্যাযজ্ঞের সময় ১৫ বছরের মোহাম্মদ কাইয়ুমের পিতামাতা ও বড় বোনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। কাইয়ুম সেই উপাখ্যানের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছে:
'আমরা রেলওয়ে কলোনিতে বসবাস করতাম। খুব ভোরে 'জয় বাংলা' শ্লোগান দিয়ে একদল লোক রেলওয়ে কলোনি আক্রমণ করে। তারা আমাদের বাড়ি লুট করে এবং বন্দুকের মুখে আমাদেরকে কলোনি থেকে একটু দূরে একটি পুরনো স্কুল ভবনে নিয়ে যায়। আটককৃতদের মধ্যে ছিল রেলওয়ে কলোনির শত শত পুরুষ, মহিলা ও শিশু। আটককারীরা আমাদেরকে ভুল আশ্বাস দিয়েছিল। তারা বলেছিল, আমাদের জীবন রক্ষা করা হবে।
শেষ বিকালে বন্দুক, রামদা ও বর্শা উঁচিয়ে আমাদের আটককারীরা সকল বন্দি পুরুষকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করায়। দু'জন দু'জন করে বন্দি পুরুষদের কম্পাউন্ডের একটি কোণে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আমাদের চোখের সামনে তাদেরকে প্রথমে রামদা দিয়ে কুপিয়ে পরে গুলি করে হত্যা
করা হয়। বন্দুকধারীরা আমার পিতাকে হত্যা করার জন্য টানা হ্যাঁচড়া করে নিয়ে যাবার সময় আমার মা ও বড় বোন নিজেদেরকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। সেই ভয়াবহ দৃশ্য এখনো আমার স্পষ্ট মনে পড়ে। দুইজন বন্দুকধারী আমার মা ও বড় বোনকে গুলি করে। রাইফেল দিয়ে গুলি করার আগে রামদা দিয়ে আমার পিতার বুক এফোড় ওফোড় করে দেয়া হয়। আমার সঙ্গে দাঁড়ানো ছিল আমার ৮ বছরের ছোট বোন। ঠিক তখন কয়েকজন পুরুষ বন্দি খালি হাতে আটককারীদের ওপর হামলা চালালে ছুটোছুটি শুরু হয়।...
আমার সামনে ছিল একটি পরিত্যক্ত বাড়ি। বাড়িটির অর্ধেক ছিল ভস্মীভূত। আমি আমার ক্রন্দনরত বোনকে আমার কাঁধে তুলে নেই এবং বাড়িটির দিকে দৌড়ে যাই। রুদ্ধশ্বাসে আমরা ধ্বংসযজ্ঞেপূর্ণ একটি রুমে অগ্নিদগ্ধ একটি
তোষকের নিচে লুকাই। আমরা এ ভূতুরে বাড়িতে ২৪ ঘণ্টা অবস্থান করি। ক্ষুধা ও পিপাসায় আমার ছোট বোন কান্নাকাটি শুরু করলে আমরা চুপিচুপি নিকটবর্তী একটি মাঠে যাই। সেখানে আমরা পানি পান করি। রাতে আমরা মাঠের শেষ প্রান্তে একটি জঙ্গলে আশ্রয় নেই। আমরা বন্য ফলমূল খেতাম। পাতার বিছানায় ঘুমাতাম। পরদিন পাকিস্তান সেনাবাহিনী আমাদের উদ্ধার করে। তারা আমাদেরকে ঈশ্বরদী নিয়ে যায়। সেখানে অন্যান্য এতিম শিশুর সঙ্গে আমরা একটি বাড়িতে বাস করতাম। আমি দিনমজুর হিসেবে কাজ করতাম। তাতে আমাদের দু'ভাই বোনের বেশ চলতো। ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে ভারতীয় বাহিনীর কাছে ঈশ্বরদীর পতন ঘটলে আমরা নতুন করে দুর্ভোগে পড়ি। ১৯৭৪ সালের জানুয়ারিতে আমরা করাচিতে প্রত্যাবাসন করি।'
ব্লাড এন্ড টিয়ার্স
--কুতুব উদ্দিন আজিজ






কি এমন ঘটেছিল যে ১৯৭১ সালে ২৬ মার্চ অপারেশন সার্চ লাইট নাজিল হয়?

এক কথায় ১৯৭১ সালে মার্চের শুরু থেকে অসহযোগ আন্দোলন এর নামে বিহারী মুসলিম হত্যার শিকার হয়েছেন ২লাখ এর প্রেক্ষিতে নেমে আসে অপারেশন সার্চ লাইট,,

সেই ঘটনা গুলো ধারাবাহিক ভাবে তুলে ধরাই আমাদের লক্ষ্য উদ্দেশ্য,


আজকে তুলে ধরব বগুড়া জেলার সান্তাহার এলাকার সামগ্রিক দূর্ভোগ নিয়ে, )

বগুড়া জেলার রেলওয়ে জংশন শহর সান্তাহারে ১৯৭১ সালে মার্চের শুরুর দিনগুলোতে ঢাকায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহের কম্পন অনুভূত হয়।

আওয়ামী লীগের উগ্রপন্থীরা অতিরঞ্জিত গুজব ছড়ায় যে, পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও পশ্চিম পাকিস্তানিরা ঢাকা ও অন্যান্য শহরে বাঙালিদের হত্যা করছে।

সান্তাহারে অবাঙালিদের বিরুদ্ধে বাঙালিদের ক্ষেপিয়ে তোলার উদ্দেশ্যে এ গুজব ছড়ানো হয়।

২৫ মার্চ উত্তেজনার বারুদে বিস্ফোরণ ঘটে।

সেদিন সশস্ত্র আওয়ামী লীগ এবং ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস ও ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বিদ্রোহী সৈন্যরা অবাঙালিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। ১৯৭১ সালের ২৭ এপ্রিল সান্তাহারে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বহর এসে পৌঁছানো নাগাদ এ শহরের প্রায় ২২ হাজার অবাঙালির মধ্যে ১৫ হাজারের বেশি লোককে হত্যা করা হয়। সান্তাহার রেলওয়ে স্টেশনে বিদ্রোহীরা কয়েকশ অবাঙালি কর্মচারী ও তাদের পরিবারকে হত্যা করে।

২৬ মার্চ দুর্বৃত্তরা একটি মসজিদে নামাজ আদায়রত ৬৫ জন অবাঙালিকে গুলি করে হত্যা করে।

আরেকটি মসজিদে দুর্বৃত্তরা প্রায় ৭০ জন অবাঙালি মহিলাকে ধর্ষণ করে।

এসব মহিলার স্বামী কিংবা পিতাকে হত্যা করা হয়েছিল।

ধর্ষণকারীরা ভারতীয় অনুপ্রবেশকারী হিন্দু বাঙালি ছিল বলে জানা গেছে। ১৯৭১ সালে এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহে বিদ্রোহীরা ৬০ জন অবাঙালি মহিলাকে উলঙ্গ অবস্থায় ঘোরায়। এসব হতভাগ্য মহিলার কয়েকজনকে পশ্চাদপসরণকারী বিদ্রোহীরা ভারতে নিয়ে যায়।

১৯৭১ সালে মার্চ-এপ্রিলের হত্যাকাণ্ড থেকে যেসব ভাগ্যবতী অবাঙালি মহিলা রক্ষা পেয়েছিল, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পূর্ব রণাঙ্গনে ভারতীয় বাহিনীর বিজয় লাভের পর মুক্তিবাহিনী তাদের হত্যা করে।

(১৬৬) একশো ছিষট্টিতম সাক্ষীর বিবরণ:

৩০ বছরের নাফিসা খাতুনের স্বামী মোহাম্মদ জহিরুদ্দিন সান্তাহারে একটি কাপড়ের দোকানের মালিক ছিলেন। বিদ্রোহীরা তাকে হত্যা করে।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ভারতীয় সেনাবাহিনী
ও মুক্তিবাহিনী ঢাকা প্রবেশ করলে নাফিসা খাতুন ও তার সন্তানদের জীবনে আবার দুঃস্বপ্ন নেমে আসে।

মোহাম্মদপুরের ত্রাণ শিবিরের অবস্থা ছিল শোচনীয়। নাফিসা ও তার সন্তানদের যে খাদ্য দেওয়া হতো তার পরিমাণ ছিল খুবই সামান্য।

১৯৭৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের একটি বিমানে তারা করাচিতে প্রত্যাবাসন করে। সাড়ে তিন বছরের ভীতি ও দুর্ভোগ নাফিসাকে বার্ধক্যে পৌঁছে দেয়। তার চুলে পাক ধরে। পাকিস্তানে পৌছতে পেরে তিনি সন্তুষ্ট। নাফিসা মনে করেন, আল্লাহ তার প্রার্থনা মঞ্জুর করেছেন। তিনি তার দুঃখজনক বৈধব্য বরণের ট্র্যাজেডির বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন:

'সময়টি ছিল ২৫ মার্চের পূর্বাহ্ন। সান্তাহারে বিরাজিত উত্তেজনায় ভীত হয়ে আমার স্বামী কাপড়ের দোকানে যাননি। দোকানটি ছিল শহরের বাণিজ্যিক এলাকার কেন্দ্রস্থলে। আমাদের কাছে খবর আসে যে, বিদ্রোহীরা আমাদের দোকান লুট করেছে। হঠাৎ করে এক ডজন বাঙালি বিদ্রোহী আমাদের বাড়িতে প্রবেশ করে। আমার স্বামী তাদের অনুনয় বিনয় করেন এবং আমাদের সকল নগদ অর্থ ও অলঙ্কার তাদের দিয়ে দিতে বলেন। আমি জোরে চিৎকার দিয়ে উঠি। তাদের কাছে প্রাণভিক্ষা চাই। আমার দুই শিশু সন্তান ভয়ে সাদা হয়ে যায়। তারা একটি টেবিলের নিচে লুকায়। বিদ্রোহীরা আমার স্বামীকে টেনে হিঁচড়ে বাড়ির উঠানে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে। আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। আমার পৃথিবী অন্ধকার হয়ে আসছিল। আমি তাকে মাটিতে পড়ে যেতে দেখি। তার বুক ও মাথা থেকে ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। আমি অজ্ঞান হয়ে যাই। জ্ঞান ফিরে এলে দেখি আমার এতিম সন্তানরা তাদের পিতার মৃত্যুতে কান্নাকাটি করছে। তারা তার মৃতদেহ দেখেছিল।...

বিদ্রোহীরা আমাদের বাড়ি তছনছ করে। সব নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী উধাও হয়ে যায়। তারা আমার বিয়ের আংটি চুরি করে। গভীর রাতে আমি বিছানার চাদর দিয়ে আমার স্বামীর মৃতদেহ ঢেকে দেই। একজন প্রতিবেশি দাফনের জন্য লাশ গোরস্তানে নিয়ে যায়। পরদিন একজন গ্রাম্য মহিলার পোশাক পরে আমি আমার দু'সন্তান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যাই। পার্বতীপুরের উদ্দেশে যাত্রা করি। সেখানে আমার স্বামীর কয়েকজন আত্মীয় বাস করতো। আমাদের যাত্রাপথ ছিল কষ্টদায়ক। আমার পায়ে ফোসকা পড়ে। তাতে ভীষণ যন্ত্রণা করছিল। আমার সন্তানরা ছিল ক্ষুধার্ত। আমরা রাস্তার পাশে ও নদীতে অসংখ্য লাশ দেখি। আওয়ামী লীগের ভ্রাম্যমাণ ক্যাডাররা ঘোরাফেরা করছিল। তারা ছিল অবাঙালিদের রক্তের নেশায় উন্মাদ। আমরা পার্বতীপুরে পৌছি। আমাদের অবস্থা ছিল তখন মরণাপন্ন। ক্ষুধা ও পিপাসায় আমরা ছিলাম অবসন্ন। আমরা আমাদের আত্মীয়-স্বজনকে

খুঁজে বের করতে পারছিলাম না। পার্বতীপুরেও অবাঙালি হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল।

আমরা খবর পাই যে, পাকিস্তানি সৈন্যরা শহরের উপকণ্ঠে প্রবেশ করেছে। এ খবরে আমাদের মনে স্বস্তি ফিরে আসে। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীরা পালিয়ে যায়। পাকিস্তানি সৈন্যরা দু'দিন আমাদের দেখাশোনা করে। পরে আমাদেরকে
ঢাকায় পাঠিয়ে দেয়া হয়

ব্লাড এন্ড টিয়ার্স
-- কুতুব উদ্দিন আজিজ






কি এমন ঘটেছিল যে ১৯৭১ সালে ২৬ মার্চ অপারেশন সার্চ লাইট নাজিল হয়?

এক কথায় ১৯৭১ সালে মার্চের শুরু থেকে অসহযোগ আন্দোলন এর নামে বিহারী মুসলিম হত্যার শিকার হয়েছেন ২লাখ এর প্রেক্ষিতে নেমে আসে অপারেশন সার্চ লাইট,,

সেই ঘটনা গুলো ধারাবাহিক ভাবে তুলে ধরাই আমাদের লক্ষ্য উদ্দেশ্য,


আজকে তুলে ধরব পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকসি এলাকার সামগ্রিক দূর্ভোগ নিয়ে,

পাকসিতে উৎপীড়ন

পাকসি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে কেন্দ্র। ১৯৭১ সালের মার্চে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহের আগে এখানে প্রায় এক হাজার অবাঙালি পরিবার বসবাস করতো।

মার্চের শুরুতে আওয়ামী লীগ দ্রুত এ শহরের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। পুলিশ, আধা-সামরিক ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস ও আনসার কেন্দ্রীয় সরকারের কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে।

এমন কোনো দিন ছিল না যেদিন মিছিল অথবা সমাবেশের মতো কর্মসূচিগুলোর মধ্যে দিয়ে আওয়ামী লীগ শক্তি প্রদর্শন করেনি।

সমাবেশগুলোতে অস্ত্রের সমাবেশ ঘটানো হতো। বেশকিছু অবাঙালি যুবক প্রহৃত হয় এবং অবাঙালিদের দোকানপাট লুট করা হয়।

মার্চের শেষ সপ্তাহ এবং এপ্রিলের শুরুতে অবাঙালিদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষের বিষবাষ্প তুঙ্গে পৌঁছে।

রেলওয়ে কলোনিতে বসবাসকারী অবাঙালিরা সন্ত্রাসী হামলার টার্গেট হয়ে দাঁড়ায়। কলোনির বাসিন্দাদের অধিকাংশ ছিল রেলওয়ের কর্মচারী এবং তাদের পরিবার। ১৯৭১ সালের ৯ এপ্রিল এ আবাসিক কলোনিতে সর্বাত্মক হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। কলোনির প্রায় ২ হাজারের বেশি বাসিন্দাকে হত্যা করা হয়। ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল পাকিস্তান সেনাবাহিনী শহরের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করার ঠিক পূর্বক্ষণে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।

একশো বারোতম সাক্ষীর বিবরণ:

৫২ বছরের আবু মোহাম্মদ ছিলেন রেলওয়ের একজন কর্মচারী। তিনি রেলওয়ে কলোনিতে বসবাস করতেন। হত্যাযজ্ঞে তার পরিবারের সাত জনকে হত্যা করা হয়। আবু মোহাম্মদকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। ১৯৭৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি করাচিতে প্রত্যাবাসন করেন। আবু মোহাম্মদ তার পরিবারের হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন:

"১৯৭১ সালে মার্চের শেষ সপ্তাহে আওয়ামী লীগের উগ্রপন্থী ও বাঙালি বিদ্রোহীরা স্টেনগান ও রাইফেল উঁচিয়ে পাকসি রেলওয়ে স্টেশন এবং রেলওয়ে কর্মচারীদের আবাসিক কলোনি আক্রমণ করে| তারা রেলওয়ের সকল অবাঙালি কর্মচারীকে পাকসি রেলওয়ে প্রাঙ্গণে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে গু•লি করে হ•ত্যা করে| সে সময় আমি ছিলাম ডিউটিতে | আমার বাম পায়ে একটি বুলেট বিদ্ধ হলে আমি আহত হই | আমি মাটিতে পড়ে যাই এবং মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকি| প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল| আমার ক্ষতস্থানে তীব্র ব্যথা করছিল| আক্রমণকারীরা বিকালে রেলওয়ে স্টেশন ত্যাগ করে আবাসিক কলোনী আক্রমণ করে| আমি মেশিনগানের একটানা গুলির আওয়াজ শুনি|,,,

আমার কোয়াটার ছিল কিছুটা দূরে| পাশে ছিল একটি মসজিদ |আমি এ মসজিদে নামাজ পড়তাম |মধ্যরাতের পর আমি হামাগুড়ি দিয়ে মসজিদে যেতে সক্ষম হই|

কোথাও আলোর কোন চিহ্ন ছিল না |চুপি চুপি মসজিদে প্রবেশ করে অন্ধকারে মসজিদের মেঝেতে মহিলাদের মত একদল মানুষ দেখতে পেলাম |
তাদের অনেকেই ছিল প্রায় বিবস্ত্র |
আমাকে বিদ্রোহীদের মনে করে কে যেন বলে উঠলো,
" এ নরক যন্ত্রণার চেয়ে আমাদেরকে গু•লি করে মেরে ফেলো"|
ফিসফিস করে আমি আমার পরিচয় দেওয়ার তারা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে এবং কিভাবে বাঙালি বিদ্রোহীরা তাদের পুরুষদের হ•ত্যা ,তাদেরকে অপহরণ এবং ধ•র্ষ•ণ করেছে আমার কাছে তার বিস্তারিত বিবরণ দেয়"|

`তাদের একজন বলল "মসজিদে নিক্ষেপ করার আগে আমাদের জামা -কাপড় খুলে নেয়া হয় এবং আমাদেরকে একটি স্কুলে নগ্ন অবস্থায় হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়, এবং সেখানে অপহরণকারীরা আমাদের সম্ভ্রমহানি করে |
গভীর রাতে আমাদেরকে মসজিদে ফেলে দিয়ে যাওয়া হয়|
দুজন মেয়ে পালানোর দুঃসাহস দেখিয়েছিলো| তাদের মৃতদেহ মসজিদ প্রাঙ্গনে পড়ে রয়েছে |এসব ধর্ষিতা মহিলা ছিল রেলওয়েতে আমার সহকর্মীদের কন্যা অথবা স্ত্রী|,,,

পরদিন বিদ্রোহীরা পিছু হটে এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একটি ইউনিট পাকশীতে প্রবেশ করে |তারা আমাদের উদ্ধার করে |হাসপাতালে আমার চিকিৎসা করা হয়| হত্যা যজ্ঞে আমার পরিবারের সকল সদস্য নিহত হয়, জীবিত মহিলা ও শিশুদের ঢাকা একটি ত্রান শিবিরে স্থানান্তর করে

ব্লাড এন্ড টিয়ার্স

_কুতুব উদ্দিন আজিজ





কি এমন ঘটেছিল যে ১৯৭১ সালে ২৬ মার্চ অপারেশন সার্চ লাইট নাজিল হয়?

এক কথায় ১৯৭১ সালে মার্চের শুরু থেকে অসহযোগ আন্দোলন এর নামে বিহারী মুসলিম হত্যার শিকার হয়েছেন ২লাখ এর প্রেক্ষিতে নেমে আসে অপারেশন সার্চ লাইট,,

সেই ঘটনা গুলো ধারাবাহিক ভাবে তুলে ধরাই আমাদের লক্ষ্য উদ্দেশ্য,
আজকে তুলে ধরব রংপুর বিভাগ এর পার্বতীপুর উপজেলার দূর্ভোগ নিয়ে,

৯২) বিরানবইতম সাক্ষীর বিবরণ:

৪৬ বছরের আবদুর রশীদ ছিলেন পার্বতীপুর রেলওয়ের একজন কর্মচারী। তিনি ১৫৩ নম্বর (উত্তর) রেলওয়ে কোয়ার্টারে বসবাস করতেন। ১৯৭১ সালের মার্চে ট্রেনে অবাঙালি হত্যাকাণ্ডের তিনি একজন সাক্ষী। আবদুর রশীদ, তার স্ত্রী ও সন্তানরা পার্বতীপুরে গণহত্যা থেকে বেঁচে যান। পূর্ব পাকিস্তানে ভারত বিজয়ী হলে তারা অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহান। ১৯৭৩ সালের এপ্রিলে তারা নেপাল হয়ে করাচিতে এসে পৌঁছান। আবদুর রশীদ তার সাক্ষ্যে বলেছেন:

‘১২ মার্চ ১০ ঘণ্টা বিলম্বে ঈশ্বরদী থেকে পার্বতীপুরে ট্রেন এসে পৌঁছায়। আওয়ামী লীগের একদল সশস্ত্র লোক মাঝপথে একটি স্টেশনে ট্রেন থামিয়ে বেশ কয়েকজন অবাঙালি যাত্রীকে হত্যা করায় ট্রেনটি বিলম্বে এসে পৌঁছায়। ১৭০ জন অবাঙালি পুরুষ, মহিলা ও শিশুর লাশ নিয়ে হতভাগ্য ট্রেনটি এসে পৌঁছার সময় আমি ছিলাম স্টেশনে। অধিকাংশ লাশ ছিল বীভৎস। ট্রেনে আরো ৭৫ জন আহত অবাঙালি ছিল। তাদের অনেকের অবস্থা ছিল গুরুতর। তাদেরকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে তাদের মধ্যে বেঁচে যায় খুব কম লোক। ট্রেনে মৃতদেহের মধ্যে দুগ্ধপোষ্য শিশুও ছিল। মায়েদের সঙ্গে তারাও ছুরিকাঘাতে নিহত হয়। এ দৃশ্য ছিল হৃদয়বিদারক। এ স্মৃতি এখনো আমার মন থেকে মুছে যায়নি। এ ঘটনার পর অবাঙালিদের জন্য ট্রেনে চড়া বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়ায়। আরো কয়েকটি জায়গা থেকে অনুরূপ ঘটনার খবর পাওয়া যায়।’

ব্লাড এন্ড টিয়ার্স
--কুতুব উদ্দিন আজিজ



কি এমন ঘটেছিল যে ১৯৭১ সালে ২৬ মার্চ অপারেশন সার্চ লাইট নাজিল হয়?

এক কথায় ১৯৭১ সালে মার্চের শুরু থেকে অসহযোগ আন্দোলন এর নামে বিহারী মুসলিম হত্যার শিকার হয়েছেন ২লাখ এর প্রেক্ষিতে নেমে আসে অপারেশন সার্চ লাইট,,

সেই ঘটনা গুলো ধারাবাহিক ভাবে তুলে ধরাই আমাদের লক্ষ্য উদ্দেশ্য,


১৪৫) একশো পঁয়তাল্লিশতম সাক্ষীর বিবরণ:

১৯৭১ সালে মার্চে বরিশাল জেলার ঝালকাঠির কুমিড়তোলায় আওয়ামী লীগের দুর্বৃত্তরা ৫০ বছরের আবদুস শাকুরের স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যা করে। এ হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে তিনি বলেছেন:

‘১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর পরই আমি বিহার থেকে পূর্ব পাকিস্তানে অভিবাসন করি। আমি বঙ্গদেশ বিভক্তির আগে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, খাজা নাজিমুদ্দিন, নুরুল আমিন ও মাওলানা তমিজউদ্দিন খানের জনসভায় যোগদান করতাম।
আমি পাকিস্তানের আদর্শে বিশ্বাস করতাম। পূর্ব পাকিস্তানে অভিবাসন করার পর আমি এক বাঙালি মেয়েকে বিয়ে করি। আমি একটি ব্যবসা শুরু করি। ব্যবসায় আমার উন্নতি হয়। বাঙালিদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল চমৎকার। আমি আমার স্ত্রীর মতো বাংলা বলতে পারতাম। আমাদের ছিল দুই পুত্র ও এক কন্যা। জন্মগতভাবে তারা ছিল বাঙালি। তাদের মাতৃভাষা ছিল বাংলা।

১৯৭১ সালে মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে আমাদের শহরে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহ শুরু হয় এবং বাঙালি ও অবাঙালিদের সম্পর্কে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

২৪ মার্চ আওয়ামী লীগ কর্মীদের একটি দল এবং ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস ও আনসারদের বিদ্রোহীরা আমাদের এলাকায় অবাঙালি বসতিতে আক্রমণ চালায়।

তারা আমার দুই পুত্রকে টেনে হিচড়ে বাইরে নিয়ে যায়। দড়ি দিয়ে তাদেরকে একটি ল্যাম্প পোস্টে বেঁধে গুলি করে হত্যা করে। তারা আমার মেয়েকেও অপহরণ করে। তাকে খুঁজে বের করতে আমি বরিশালে এক মাস নিখোঁজ চেষ্টা চালাই।

দুর্বৃত্তরা আমাকে ও আমার স্ত্রীকে রাইফেলের বাট দিয়ে আঘাত করে। কয়েকজন দয়ালু বাঙালি প্রতিবেশী আমাদেরকে হত্যা না করার জন্য তাদের অনুরোধ করে।

আমার স্ত্রী এ ধকল ও শোক সহ্য করতে পারেননি। ১৯৭১ সালের এপ্রিলে তিনি মারা যান। বরিশালে অসংখ্য মেয়েকে অপহরণ করা হয়। আমাদের উপর আক্রমণকারীদের উন্মত্ততা ছিল ধারণার অতীত। আমি আর কখনো এমন উন্মাদনা দেখিনি। আমি চট্টগ্রামে স্থানান্তরিত হই। ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘ আমাকে চট্টগ্রাম থেকে করাচিতে প্রত্যাবাসন করে।’

ব্লাড এন্ড টিয়ার্স
কুতুব উদ্দিন আজিজ




কি এমন ঘটেছিল যে ১৯৭১ সালে ২৬ মার্চ অপারেশন সার্চ লাইট নাজিল হয়?

এক কথায় ১৯৭১ সালে মার্চের শুরু থেকে অসহযোগ আন্দোলন এর নামে বিহারী মুসলিম হত্যার শিকার হয়েছেন ২লাখ এর প্রেক্ষিতে নেমে আসে অপারেশন সার্চ লাইট,,

সেই ঘটনা গুলো ধারাবাহিক ভাবে তুলে ধরাই আমাদের লক্ষ্য উদ্দেশ্য,

বরিশালে ধ্বংসলীলা

১৯৭১ সালের দ্বিতীয় সপ্তাহে বরিশাল জেলার বহু স্থানে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহে বাঙালি ও অবাঙালিদের মধ্যকার সম্পর্কের উপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি হয়।

গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, পশ্চিম পাকিস্তানে বাঙালিদের হত্যা করা হচ্ছে এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনী ঢাকায় বাঙালিদের গণহত্যা করছে।

পশ্চিম পাকিস্তানি ও অন্যান্য অবাঙালিদের বিরুদ্ধে বাঙালি জনগণকে উত্তেজিত করে তুলতে আওয়ামী লীগ এসব গুজবকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে।

ফলে অবাঙালিদের বিরুদ্ধে বিচ্ছিন্ন সহিংসতা শুরু হয়। কিন্তু মার্চের চতুর্থ সপ্তাহে বরিশাল শহর এবং এ জেলার অন্যান্য জায়গায় অগ্নিসংযোগ, লুটতরাজ ও হত্যাকাণ্ড দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে।

এ হত্যাকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা ছিল ১৫ হাজারের বেশি।

(১৪০) একশো তেতাল্লিশতম সাক্ষীর বিবরণ:

২৩ বছরের আহমেদ আলম মার্চ গোলযোগের পুরো সময় বরিশালে বসবাস করেন।

১৯৭৩ সালের অক্টোবর তিনি করাচিতে প্রত্যাবর্তন করেন।

আহমেদ আলম ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে বরিশাল স্টিমার জেটির উপকণ্ঠে ৬০টি অবাঙালি পরিবার নিধনের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন—

‘"আওয়ামী লীগের জঙ্গিরা স্থানীয় শান্তি কমিটির একটি বৈঠকে যোগদানের এলাকায় অবাঙালি বাসিন্দাদের আমন্ত্রণ জানায়। এসব অবাঙালিকে আশ্বাস দেয়া হয়েছিল যে, তাদের পরিবারকে রক্ষা করা হবে।

রাত ৯টায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। হঠাৎ করে আওয়ামী লীগের সশস্ত্র জঙ্গিরা বৈঠকে যোগদানকারী অবাঙালিদের ওপর গুলিবর্ষণ করে এবং ঘটনাস্থলে অনেককে হত্যা করে ফেলে।

কয়েকজন অবাঙালি এ ফাঁদ থেকে পালাতে সক্ষম হয় এবং নিজ নিজ পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে বাড়িতে ছুটে যায়। …

মাঝরাতের ঠিক পূর্বক্ষণে আওয়ামী লীগের জঙ্গি, বিদ্রোহী পুলিশ ও গুণ্ডারা অবাঙালি কলোনি আক্রমণ করে এবং কয়েক ডজন বাড়ি পুড়িয়ে দেয়।

তারা প্রায় সকল প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষকে হত্যা, ৫০ জন মহিলাকে অপহরণ এবং অনেককে ধর্ষণ করে|

কয়েকদিন পর পাকিস্তান সেনাবাহিনী সেখানে পৌঁছে ভষ্মীভূত অবাঙালি কলোনির ধ্বংসস্তূপ থেকে ১১২ টি লাশ উদ্ধার করে একটি পুকুরে বহু মহিলার লাশ পাওয়া যায় সাতষট করে এসব মহিলাকে হত্যা করা হয়েছিল অন্যান্য অপহৃত বাঙালি মহিলার কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি হত্যাযজ্ঞ থেকে মাত্র এক ডজন লোক রক্ষা পেয়েছিল

-- ব্লাড এন্ড টিয়ার্স
কুতুব উদ্দিন আজিজ




কি এমন ঘটেছিল যে ১৯৭১ সালে ২৬ মার্চ অপারেশন সার্চ লাইট নাজিল হয়?

এক কথায় ১৯৭১ সালে মার্চের শুরু থেকে অসহযোগ আন্দোলন এর নামে বিহারী মুসলিম হত্যার শিকার হয়েছেন ২লাখ এর প্রেক্ষিতে নেমে আসে অপারেশন সার্চ লাইট,,

সেই ঘটনা গুলো ধারাবাহিক ভাবে তুলে ধরাই আমাদের লক্ষ্য উদ্দেশ্য,

আজকে তুলে ধরব ঢাকা বিভাগ এর নারায়ণগঞ্জের সামগ্রিক দূর্ভোগ নিয়ে, )

নারায়ণগঞ্জে অবাঙালি হত্যাকাণ্ড

নারায়ণগঞ্জে অবাঙালিদের সংখ্যা বেশি ছিল না। অবাঙালিদের অনেকে দিনে সেখানে কাজ করতো এবং সন্ধ্যায় ঢাকায় ফিরে যেতো। মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকেই আওয়ামী লীগের চরমপন্থীরা নারায়ণগঞ্জে অবাঙালিদের বিরুদ্ধে বাঙালি মিল শ্রমিকদের প্ররোচিত করছিল। মার্চের মাঝামাঝি তারা অবাঙালিদের বাড়িঘর চিহ্নিত করে।

২১ মার্চ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে একদল উন্মত্ত জনতা কোম্পানির ফ্যাক্টরি ও কোয়ার্টারে হামলা চালায়। এসব কোয়ার্টারে অবাঙালি শ্রমিক ও তাদের পরিবার বসবাস করতো। তারা ফ্যাক্টরির কোনো ক্ষতি করেনি। তবে তারা অবাঙালি শ্রমিক ও তাদের পরিবারকে হত্যা করে। আসগর আলী তার সাক্ষ্যে বলেছেন, আমি ছিলাম আমার কোয়ার্টারে একা। আওয়ামী লীগ হামলা শুরু করলে আমি আমার এক অত্যন্ত প্রিয় বাঙালি বন্ধুর বাড়িতে পালিয়ে যাই। আমার বাঙালি বন্ধু আমাকে লুকিয়ে রাখায় আমি রক্ষা পাই। ২৬ মার্চ বিকালে সেনাবাহিনী আমাদের ফ্যাক্টরি পরিদর্শন করে এবং ১৬০ জন অবাঙালির লাশ গণকবর দেয়ার ব্যবস্থা করে। অবাঙালিদের এসব লাশ তাদের কোয়ার্টারে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল। বাঙালি উন্মত্ত জনতা প্রতিটি অবাঙালির বাড়ি লুট করে এবং সব মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে চম্পট দেয়। আমি জানতে পারি যে, আমাদের ফ্যাক্টরির প্রতিটি অবাঙালিকে হত্যা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। অবাঙালি শ্রমিকরা বিহারী হিসেবে পরিচিত ছিল।




(কি এমন ঘটেছিল যে ১৯৭১ সালে ২৬ মার্চ অপারেশন সার্চ লাইট নাজিল হয়?

এক কথায় ১৯৭১ সালে মার্চের শুরু থেকে অসহযোগ আন্দোলন এর নামে বিহারী মুসলিম হত্যার শিকার হয়েছেন ২লাখ এর প্রেক্ষিতে নেমে আসে অপারেশন সার্চ লাইট,,

সেই ঘটনা গুলো ধারাবাহিক ভাবে তুলে ধরাই আমাদের লক্ষ্য উদ্দেশ্য, তবে আজকে আমরা চট্টগ্রাম পর্বের জুলুম এর ইতিহাস এর ইতি টানব তাই ডিসেম্বর এ পার্বত্য চট্টগ্রামের একটি ঘটনা দিয়ে শেষ করব)

মুক্তিযোদ্ধাদের খাসি দিয়ে অভ্যর্থনার প্রতিদান ছিল খুন, ধর্ষণ ও লুট----

১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর পাকিস্তান বিমানবাহিনী ভারতে কয়েকটি বিমানবন্দরে হামলা চালালে পাক-ভারত যুদ্ধ শুরু হয়।

৪ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রামের সবচেয়ে উত্তরের সীমান্তচৌকি ও পানছড়ি উপজেলার সদর থেকে পাকবাহিনী প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

৫ ডিসেম্বর স*ন্ত্রাসী মুক্তিবাহিনীর একটি দল ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে পানছড়িতে প্রবেশ করে।

একদল চাকমা সেই মুক্তিযোদ্ধা নামক ভা*রতীয় স*ন্ত্রা*সীদের অভ্যর্থনা জানাতে পানছড়িতে যায়।

স#ন্ত্রাসী মুক্তিযোদ্ধাদের অভ্যর্থনা জানানোর উদ্দেশ্যে তারা একটি খাসি সঙ্গে করে নিয়ে যায়।

সন্ত্রাসীরা তাদের কাছ থেকে খাসিটি গ্রহণ করেছিল বটে, তবে তার প্রতিদান ছিল খুব ভয়ংকর।

কিছুক্ষণ পরেই স*ন্ত্রাসী মুক্তিযোদ্ধারা সেই অভ্যর্থনাকারীদের সকলকে নির্মমভাবে হত্যা করে।

তারপরেই উপজাতিদের র*ক্তে রঞ্জিত হতে থাকে পাহাড়ি গ্রাম গুলো। তারা পানছড়ি শহরের আশপাশের পাহাড়ি গ্রামগুলোর ওপর নিশংস হামলা চালিয়ে, বাড়িঘরে লুটপাট করে এবং আগুন লাগিয়ে দেয়।

মুক্তিযোদ্ধা নামক ভারতীয় স*ন্ত্রাসীরা র*ক্ত পিপাসু রাক্ষসের মতো সামনে যাকে পায় তাকেই হ#ত্যা করা শুরু করে এমনকি বহু নারীদের সেই দিনই ধর্ষণ করা হয়।

তাদের হামলায় নারী-পুরুষ-শিশুসহ পানছড়ি শহরে ও আশপাশের গ্রামের ৩২ জন উপজাতি নিহত হয়। প্রায় দুই শতাধিক উপজাতিকে হত্যা করা হয়।

বই: পার্বত্য চট্টগ্রাম । শান্তিবাহিনী জিয়া হত্যা মনজুর খুন
লেখক: মহিউদ্দীন আহমদ
পৃষ্ঠা: ৯




(কি এমন ঘটেছিল যে ১৯৭১ সালে ২৬ মার্চ অপারেশন সার্চ লাইট নাজিল হয়?

এক কথায় ১৯৭১ সালে মার্চের শুরু থেকে অসহযোগ আন্দোলন এর নামে বিহারী মুসলিম হত্যার শিকার হয়েছেন ২লাখ এর প্রেক্ষিতে নেমে আসে অপারেশন সার্চ লাইট,,

সেই ঘটনা গুলো ধারাবাহিক ভাবে তুলে ধরাই আমাদের লক্ষ্য উদ্দেশ্য,

আজকে তুলে ধরব চট্টগ্রাম বিভাগ এর মধ্যে অবস্থিত কুমিল্লার দূর্ভোগ নিয়ে, )

কুমিল্লায় দুর্ভোগ ___________

১৯৭১ সালে মার্চের মাঝামাঝি কুমিল্লায় বাঙালি ও
অবাঙালিদের মধ্যে উত্তেজনা আতঙ্ক-জনক পর্যায়ে পৌঁছে |

এই উত্তেজনার মূলে ছিল আওয়ামী লীগের কাল্পনিক গুজব এবং অল ইন্ডিয়া রেডিও°র বৈরী প্রচারণা |

ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসের বিদ্রোহী সৈন্যরা আওয়ামী লীগের ক্যাডারদের সঙ্গে যোগসাজশে কাজ করতে থাকে|

আওয়ামী লীগের ভ্রাম্যমান সশস্ত্র কর্মীরা অবাঙ্গালীদের বাড়িঘর চিহ্নিত করে |

মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে বিদ্রোহীরা অবাঙ্গালীদের বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটতরাজ করে এবং বাধাদানকারীদের নির্মূল করার অভিযান চালায় |

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন যে ,এপ্রিলের গোড়ার দিকে পাকিস্তান সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার আগে কুমিল্লায় বিদ্রোহী ও তাদের সহযোগীরা কমপক্ষে ৪ হাজার করে|


অবাঙালি কে হ*ত্যা 
ব্লাড এন্ড টিয়ার্স

কুতুব উদ্দিন আজিজ





কি এমন ঘটেছিল যে ১৯৭১ সালে ২৬ মার্চ অপারেশন সার্চ লাইট নাজিল হয়?

এক কথায় ১৯৭১ সালে মার্চের শুরু থেকে অসহযোগ আন্দোলন এর নামে বিহারী মুসলিম হত্যার শিকার হয়েছেন ২লাখ এর প্রেক্ষিতে নেমে আসে অপারেশন সার্চ লাইট,,

সেই ঘটনা গুলো ধারাবাহিক ভাবে তুলে ধরাই আমাদের লক্ষ্য উদ্দেশ্য,

আজকে তুলে ধরব চট্টগ্রাম বিভাগ এর মধ্যে অবস্থিত পাহাড়তলীর দূর্ভোগ নিয়ে, )

চট্টগ্রামে কসাইখানা _____

২৩ বছরের নূর মোহাম্মদ সিদ্দিকী চট্টগ্রামের ফিরোজশাহ কলোনিতে একটি ভাড়া করা বাসায় পিতা-মাতার সঙ্গে বসবাস করত| ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানের সংঘটিত হত্যা*যজ্ঞে সে তার অধিকাংশ আত্মীয়-স্বজনকে হারায় |

১৯৭১ সালের এপ্রিলে নূর মোহাম্মদ চট্টগ্রাম ত্যাগ করে করাচিতে এসে পৌঁছায় | সে তার মর্মস্পর্শী সাক্ষ্যে বলেছেন::

'৩ মার্চ দুপুরে আওয়ামী লীগের প্রায় 5 হাজার সশস্ত্র কর্মী এবং তাদের সমর্থক ফিরোজ শাহ কলোনিতে আক্রমণ করে |

তাদের সঙ্গে ছিল ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসের কয়েকজন সশস্ত্র বিদ্রোহী | তাদের পরনে ছিল ডিউটি কালীন ইউনিফর্ম, অবাঙালিদের পক্ষ থেকে কোন ধরনের প্ররোচনা ছাড়া উন্মত্ত জনতা উন্মাদ হয়ে উঠে আওয়ামী লীগের জ*ঙ্গি সমর্থকরা শত শত ঘরবাড়ি লুট করে এবং পেট্রোল ও কেরোসিন ছিটিয়ে আ'গুন ধরিয়ে দেয়|

বাসিন্দারা দৌড়ে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করলে সশস্ত্র লোকেরা খুব কাছ থেকে তাদের গু*লি করে | আমি আল্লাহর বিশেষ রহমতে হত্যা*যজ্ঞ থেকে রক্ষা পাই |

আক্রমণকারীরা এগিয়ে এলে আমি একটি স্টোর রুমে আত্মগোপন করি |

আত্মগোপন থেকে বের হয়ে আমি আমাদের এলাকায় শত শত ভষ্মীভুত ঘরবাড়ি দেখতে পাই|

এলাকার সর্বত্র ছিল লাশের দুর্গন্ধ | আক্রমণকারীরা কাউকে কাউকে মৃত ভেবে ফেলে রেখে যায় |

এসব অর্ধমৃত লোকগুলো কাতরাচ্ছিল |কিন্তু সহায়তা করার মত কেউ ছিল না |পুলিশ উধাও হয়ে যায় |পরদিনও আমাদের এলাকায় আক্রমণকারীরা ঘোরাফেরা করছিল| যেসব অবাঙালি কলোনি থেকে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করে তাদেরকে রাস্তায় গু*লি করে হ*ত্যা করা হয় |

রাতে বহু আবাঙ্গালী মেয়েকে অপহরণ এবং খালি ঘরে ধ"র্ষ"ণ করা হয়|

বহু শিশুকে অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করা হয়| মাদেরকে তাদের শিশুদের করুন মৃত্যু প্রত্যক্ষ করতে বাধ্য করা হয় |দুদিনের পাসে ও হত্যাযজ্ঞে ফিরোজ শাহ কলোনি আণবিক বোমায় বিধ্বস্ত একটি লোকালয়ের রূপ ধারণ করে,,,,,,,

এ ভয়াবহ মাসের স্মৃতি আমি কোনদিন ভুলতে পারিনি। মনে হচ্ছিল সবগুলো লোক যেন হত্যা লুট ও ধর্ষণের জন্য উন্মাদ হয়ে গিয়েছিল | এ রক্ত গঙ্গায় নিহতদের সবাই ছিল অবাঙালি |কয়েকজন পাকিস্তানপন্থী বাংগালি তাদের
অবাঙালি বন্ধুদের বাঁচানোর চেষ্টা করে এসব পাকিস্তানপন্থী বাঙালি কে চরম শাস্তি দেওয়া হয় এমনকি হত্যা করা হয় |

Reference -- blood and tears



(কি এমন ঘটেছিল যে ১৯৭১ সালে ২৬ মার্চ অপারেশন সার্চ লাইট নাজিল হয়?

এক কথায় ১৯৭১ সালে মার্চের শুরু থেকে অসহযোগ আন্দোলন এর নামে বিহারী মুসলিম হত্যার শিকার হয়েছেন ২লাখ এর প্রেক্ষিতে নেমে আসে অপারেশন সার্চ লাই সেই ঘটনা গুলো ধারাবাহিক ভাবে তুলে ধরাই আমাদের লক্ষ্য উদ্দেশ্য,


আজকে তুলে ধরব চট্টগ্রাম বিভাগ এর সামগ্রিক দূর্ভোগ নিয়ে, )

পাকিস্তান সেনাবাহিনী ২৫ই শে মার্চ মধ্যরাতে ঢাকা এবং পূর্ব পাকিস্তানের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শহরে পূর্বাহ্নে আঘাত হেনে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে |

কিন্তু এই চ্যালেঞ্জ এবং ১ লাখ ৭৬ হাজারের বেশি বাঙালি বিদ্রোহীর বিদ্রোহ নিয়ন্ত্রণে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হাতে প্রদেশে শক্তি ছিল অপর্যাপ্ত |

এজন্য বহু জায়গায় বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকা পুনরুদ্ধারে সেনাবাহিনীর কোথাও কোথাও এক সপ্তাহ থেকে একমাস সময় লেগেছিল |

চট্টগ্রামে সেনাবাহিনী ক্ষিপ্র গতিতে বন্দর এবং বিমানবন্দরের মত শহরের কৌশলগত অংশগুলোর উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে |

কিন্তু 1971 সালের ৯ এপ্রিল নাগাদ বহু আবাসিক এলাকা সশস্ত্র বন্দুকধারীদের আওতায় থেকে যায় |এ নরকীয় মুহূর্তে হাজার হাজার অবাঙ্গালীকে গণহারে হ*ত্যা করা হয়|

ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টাল সেন্টার ছিল চট্টগ্রামে বিদ্রোহীদের অপারেশনাল হেডকোয়ার্টার এবং শহরের আওয়ামী লীগের প্রধান কার্যালয় ছিল মূলত কসাইখানা |

এ কসাইখানায় নির্যাতন করার সেল ও চেম্বার ছিল | নির্যাতনের সেলগুলোতে আটক অবাঙালিদের শরীর থেকে সিরিঞ্জ দিয়ে রক্ত বের করে নেওয়া হত, রক্ত বের করা হয়ে গেলে অবাঙ্গালীদের হত্যা করা হতো|

ওসমানিয়া গ্লাসওয়ার্ক ,হাফিজ জুটমিল, ইস্পাহানি জুটমিল এবং অন্যান্য ফ্যাক্টরি এবং বিবিরহাটে আমিন জুটমিল এবং চন্দ্রঘোনায় কর্ণফুলী পেপার মিলে অবাঙালি কর্মচারী এবং তাদের পরিবারবর্গের হত্যাকাণ্ডে প্রদর্শিত নিষ্ঠুরতা প্রাচীন চীনের হুনদের বর্বরতাকে ছাড়িয়ে যায়

|১৯৭১ সালে মার্চের শেষ পাঁচ দিন এবং এপ্রিলের গোড়ায় দিকে বিদ্রোহীরা এসব জায়গায় অধিকাংশ হত্যাকাণ্ড চালায়|

বিদ্রোহীদের বর্ণবাদী গণহত্যা থেকে খুব কম সংখ্যক
অবাঙালি রক্ষা পেয়েছিল |

চট্টগ্রামে গভর্নমেন্ট রেস্ট হাউসের কুখ্যাত কসাইখানায় প্রায় চার হাজার অবাঙালিকে হত্যা করা হয় | তাদের শরীর থেকে রক্ত বের করে নেয়া হয় |

বাঙ্গালী ডাক্তাররা তাদের চোখ থেকে কর্নিয়া তুলে নেয় তড়িঘড়ি করে খোড়া অগভীর গর্তে এসব লাশ চাপা দেয়া হয় |

কারো মধ্যে বেঁচে থাকার ক্ষীণ সম্ভাবনা দেখা দিলে তার মাথার খুলিতে গুলি করা হতো |

আওয়ামী লীগের জঙ্গিরা মসজিদের কয়েকজন ইমামকে বিহারীদের হত্যা করা বাঙালি মুসলমানদের ধর্মীয় কর্তব্য হিসেবে ফতোয়া দিতে বাধ্য করে |

চট্টগ্রামে ফায়ার বিগ্রেড অফিসের কাছে একটি মসজিদে অর্ধডজন অবাঙালিকে হত্যা করা হয় |
বিদ্রোহীরা তাদেরকে বাড়ি থেকে অপহরণ করেছিল |

কালুরঘাট শিল্প এলাকায় বাঙালি বিদ্রোহীরা ৩০০ মহিলা সহ প্রায় পাঁচ হাজার অবাঙালিকে জবাই করে |

কালুরঘাট হত্যাকাণ্ড থেকে খুব কম সংখ্যক বাঙালি রক্ষা পেয়েছিল | আটক অবাঙালি মহিলাদের ধর্ষণ করা হয় | কাউকে কাউকে ধর্ষণ করা হয়েছিল প্রকাশ্য দিবালোকে রাস্তায়|

হালিশহর কালুরঘাট ও পাহাড়তলীতেও বর্বর হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল এসব এলাকায় বাঙালি বিদ্রোহী সৈন্যরা গোটা বসতির চারিদিকে পেট্রোল ও কেরোসিন ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় তারপর অগ্নিকুণ্ড থেকে পালিয়ে যাওয়া বাঙালিদের হত্যা করা হয় |

1971 সালে মার্চের শেষ সপ্তাহ এবং এপ্রিলের শুরুতেই এই
নির্বিচার হত্যাকাণ্ডে চট্টগ্রাম ও তার আশপাশের এলাকায় প্রায় ৪০ হাজার অবাঙালি নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় |মৃতদেহ গুলো পুড়িয়ে দেওয়া অথবা নদী কিংবা সাগরে নিক্ষেপ করায় নিহতদের সঠিক সংখ্যা কখনো জানা যাবে না|হিংস্র বিদ্রোহীদের অনেকেই ছিল হিন্দু এসব হিন্দু বিদ্রোহী মসজিদ ও মুসলমানদের মাজার অপবিত্র এবং পবিত্র কোরআনে কপিতে অগ্নি সংযোগ করে |

ব্লাড এন্ড টিয়ার্স

-কুতুব উদ্দিন আজিজ



Post a Comment

Previous Post Next Post