বাংলাদেশে তালেবান সমর্থক গোষ্ঠী কারা ?

 


বাংলাদেশে তালেবানদের অনেক সমর্থক আছে। এই সমর্থনের লীডে আছে মূলত দুইটা গ্রুপঃ কওমী অঙ্গন ও আল কায়েদাপন্থীরা।
তালেবানরা দেওবন্দী আর আমাদের কওমীরা দেওবন্দী। তাদের মধ্যে একটা ভাই ভাই সম্পর্ক আছে। তাদের মধ্যে যোগাযোগ এবং যাওয়া আসাও আছে।

২০১৬ সালে ইন্ডিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল বলেছিলেন, তালেবানরা ইন্ডিয়ার জন্য এসেট হতে পারে। কারণ তালেবানরা দেওবন্দী, আর দেওবন্দ মাদ্রাসা ইন্ডিয়ায় অবস্থিত। তালেবানদের উস্তাদরা ইন্ডিয়ায় থাকেন। ইন্ডিয়ার যেহেতু দেওবন্দের ওপরে লেভারেজ আছে ও বুঝাপড়া আছে, তারা এই ইনফ্লুয়েন্সকে কাজে লাগিয়ে তালেবানদেরকে কন্ট্রোল করতে পারবে।
এটাকে ইন্ডিয়া বলছে থিওলজিক্যাল অপরচিউনিটি।
ইন্ডিয়া সাকসেসফুলি দেওবন্দের মাধ্যমে তালেবানদেরকে কব্জায় আনতে পারছে। তালেবানরা বলেছে আফগানিস্তানে তারা কোন এন্টি-ইন্ডিয়া এক্টিভিটি হতে দিবে না। শুধু তাই নয়, ইন্ডিয়া তালেবানকে দিয়ে পাকিস্তানকে ডিস্টাবিলাইজ করার চেষ্টা করছে।
তালেবানরা মূলত পশতুন। পাকিস্তানের ভিতরে যে পশতুন জনগোষ্ঠী আছে, তাদেরকে দিয়ে তালেবানরা পশতুন জাতীয়তাবাদ উস্কে দিচ্ছে। এরাই টিটিপি (পাকিস্তানের তালেবান)। তাদেরকে বলছে তোমরা পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়ে আফগানিস্তানের অংশ হয়ে যাও। এটাকে তারা ব্র্যান্ডিং করছে শরীয়াহ কায়েমের যুদ্ধ হিসেবে।
আফগানিস্তান একটা ল্যান্ড লকড দেশ। তাদের ইকোনমির অলমোস্ট পুরোটাই পাকিস্তানের ওপরে ডিপেন্ড করছে। পাকিস্তান চাইলেই আফগানিস্তানকে পথে বসিয়ে দিতে পারবে। পাকিস্তান চাইলে তালেবানদের জায়গায় অন্য কোন রাজনৈতিক শক্তিকে ক্ষমতায় নিয়ে আসতে পারবে এবং এতে আন্তর্জাতিক সমর্থনও পাবে। পাকিস্তান সেটা চাইছে না, তারা তালেবানদেরকে বারবার সুযোগ দিচ্ছে। তালেবান বুঝতেছে না যে একটা সময় পরে পাকিস্তানের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙ্গে যাবে।
এই হচ্ছে অবস্থা। আর আফগানিস্তানের তালেবান কিনা চিন্তা করছে পাকিস্তান দখল করার! ইন্ডিয়ার উস্কানীতে তালেবানরা তাদের "ইমারাত" এর বিস্তৃতির দিবাস্বপ্ন দেখছে।

ইন্ডিয়া যেভাবে দেওবন্দের মাধ্যমে তালেবানদের কন্ট্রোল করছে, তারা বাংলাদেশের কওমী অঙ্গনকেও কন্ট্রোল করার চেষ্টা করতে পারে। হয়ত নানানভাবে করছেও। ইন্ডিয়ার হিউজ লেভারেজ আছে এখানে। এটা বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নও বটে।
আল কায়েদাপন্থীরা বেশ তালেবান ভক্ত।

এ ধরণের কনফ্লিক্টে অনেক সিভিলিয়ান মারা যায়। এটা পাকিস্তানেও হচ্ছে, আফগানিস্তানেও হচ্ছে। পাকিস্তানের হাতে সিভিলিয়ান মারা যাওয়াকে বারবার হাইলাইট করে আল কায়েদাপন্থীরা এই যুদ্ধকে জায়েজ করতে চাইছে। এদিকে তারা তালেবানদের হাতে সিভিলিয়ান মারা যাওয়াকে লুকাচ্ছে। এমনকি একাত্তর নিয়ে পাকিস্তানের ব্যাপারে আওয়ামী ও ইন্ডিয়া যে গণহত্যার ন্যারেটিভ তৈরি করেছে সেটাকেও আল কায়েদাপন্থীরা গ্রহণ করে নিয়েছে। ন্যারেটিভকে তারা এমন একটা জায়গায় নিয়ে গেছে যে তারা বলতে চাইছে, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তারা "জিহাদ" করছে। বাংলাদেশ থেকে রিক্রুট করে আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে লোকবল পাঠাচ্ছে। এখানেও ইন্ডিয়ার সহায়তা আছে।
পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধে আল কায়েদাপন্থীরা তাদের নিজস্ব ফ্লেভার নিয়ে আসছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তালেবানরা হচ্ছে পাক, পাকিস্তানিরা হচ্ছে না-পাক। তাদের অনেকে এটাকে শরীয়াহ পরিচালিত ইমারাহ (তালেবান) বনাম সেকুলার রাষ্ট্র (পাকিস্তান) এর দ্বন্দ্ব আকারে প্রেজেন্ট করছে। আরো এক্সট্রিমিস্ট গ্রুপ এটাকে সরাসরি ইসলাম বনাম কুফরের দ্বন্দ্ব হিসেবে দেখছে।
মুসলিম বনাম মুসলিম দ্বন্দ্বকে ইসলাম বনাম কুফর হিসেবে দেখানো খারেজী টেন্ডেন্সি। আল কায়েদাদের খারেজি বলছি না, কিন্তু এই টেন্ডেন্সি তাদের মধ্যে সুপ্তভাবে আছে। মনে রাখবেন, দায়েশ বা আইসিসের মত খারেজি গ্রুপের জন্ম আল কায়েদা থেকেই হয়েছে। কোন কনফ্লিক্ট সিচুয়েশন তৈরি হলে আল-কায়েদাদের একটা গ্রুপের মধ্যে খারেজী প্রবণতা চলে আসে। তারা কুফফার, তাগুত জপতে থাকে। বর্তমানে তালেবান বনাম পাকিস্তানের দ্বন্দ্বেও সেই প্রবণতার প্রকাশ আমরা দেখতে পাচ্ছি।
এই খারেজী প্রবণতা আল কায়েদাপন্থীদের গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট করছে। এই প্রবণতাকে তারা বাংলাদেশের কওমী অঙ্গনে ছড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে কওমী ও তালেবানদের গ্রহণযোগ্যতাও নষ্ট হচ্ছে।

তালেবানদের উচিত ইন্ডিয়ার চক্রান্তকে বুঝা এবং পাকিস্তান ভাঙ্গার চেষ্টা থেকে নিজেদেরকে নিবৃত করা। সক্ষমতার চেয়েও অতি উচ্চাকাঙ্খা দেখানো ভাল না। শরীয়াহ বাস্তবায়নের নামে তারা অনেক বাড়াবাড়ি করেন, সেগুলো থেকেও তাদের বের হয়ে আসা উচিত। পাকিস্তানের সাথে সুসম্পর্ক তৈরি করে কিভাবে নিজেদের দেশটাকে গোছানো যায় সেদিকেই তাদের বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত।


২০১৬ সালে অজিত দোভলের বক্তব্য :-



Post a Comment

Previous Post Next Post