পাক আফগান পরিস্থিতি প্রেক্ষাপট

 



পাক আফগান পরিস্থিতি প্রেক্ষাপট
(করাচি থেকে বাংলাদেশী তালিবে ইলম আবদুল গাফফারের লেখা)
প্রথম কথা হলো টিটিপির (TTP) লোকেরা দাবি করে—এবং তারা লিখিতভাবেও দিয়েছে, তাদের সাক্ষাৎকারেও আছে—যে তারা শেখ হাইবাতুল্লাহর হাতে বায়আত করেছে। বায়আত কোনো সাধারণ বিষয় নয়। যদি তারা সত্যিই তাঁর হাতে বায়আত করে থাকে, তাহলে শেখ হাইবাতুল্লাহর সামনে দুটি পথ আছে: হয় তিনি তাদের বায়আত ভেঙে ঘোষণা করবেন যে তোমাদের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই, তোমরা বিদ্রোহী; অথবা তাদের বাধা দেবেন যে তোমরা যুদ্ধ করতে পারবে না।

যদি বায়আতও বহাল থাকে আর তারা যুদ্ধও চালিয়ে যায়, তাহলে তার মানে শেখ হাইবাতুল্লাহ নিজেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছেন।
দ্বিতীয় কথা—কয়েক মাস আগে আফগানিস্তানের এক উচ্চ কর্মকর্তা পাকিস্তানকে হুমকি দিয়ে বলেছেন, পুরো পাকিস্তানে হামলা পরিচালনার জন্য আমাদের নজরিয়া গ্রহণকারী অনেক লোক আছে; এছাড়াও তাদের অনেক কর্মকর্তা প্রতিনিয়ত এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছে।
৩/ কয়েক মাস আগে আফগান তালেবান এক মানচিত্র প্রকাশ করেছে, যে মানচিত্রে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান পুরো জায়গাকে আফগানিস্তান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, আর সেই মানচিত্র আফগানের বড় বড় প্রতিষ্ঠানে প্রকাশ করা হয়েছে।
৪/ কিছুদিন পূর্বে একটি প্রকাশিত তালিকায় তারা পাকিস্তানের ৩৭টি প্রদেশের জন্য গভর্নর, উপ-গভর্নর, প্রাদেশিক মন্ত্রী (তথ্য, গোয়েন্দা, অর্থ) এবং সামরিক কমান্ডার নিয়োগ দিয়েছে। এতে বোঝা যায় তারা পাকিস্তানকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা হিসেবে বিবেচনা করছে—যেমন আফগানিস্তানের ৩৪টি প্রদেশে তারা গভর্নর নিয়োগ করেছে, তেমনি পাকিস্তানেও একই কাঠামো দাঁড় করিয়েছে।
৫/ আর বর্তমানে TTP-এর প্রধানসহ TTP-এর বড় বড় নেতা সবাই আফগানিস্তানে অবস্থান করেছে।
৬/ কাবুলের প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসে যারা TTP-এর লোক ছিল, তারা একটি প্রেজেন্টেশন দিয়েছে—পাকিস্তান কীভাবে জয় করা যায় তা দেখিয়েছে। তারা সেখানে বলেছিল, আফগানিস্তানে ৬০,০০০ তালেবান ছিল যারা ন্যাটো ও আমেরিকাকে পরাজিত করেছে; এখন শুধু পেশাওয়ারে ৭,০০০ আমাদের তালেবান আছে। তারা বলছে, আমরা খাইবার পাখতুনখোয়া দখল করেছি, বেলুচিস্তান আমাদের হাতে এসেছে। এখন সিন্ধ ও পাঞ্জাবের জন্য সেখানে সংগঠন তৈরি হচ্ছে।
৭/ সীমান্তে ২৬০০ কিমি দৈর্ঘ্যের পথে তিন বছরে ৫০০০-এর বেশি হামলা হয়েছে।
আর এ সমস্ত বিষয় আমিরুল মুমিনিন হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার ইশারা ছাড়া অসম্ভব।
আর কিছুদিন পূর্বে কাবুল, খোস্ত, কান্দাহার, জালালাবাদ ও কুন্দুজসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এমন তথ্য প্রকাশিত হয়েছে যে, হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা বিভিন্ন কমান্ডার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অধীনে থাকা আত্মঘাতী সদস্যদের কান্দাহারে সমবেত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক বা মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক নিরাপত্তা সংবাদমাধ্যমে এ ধরনের আরও একটি তথ্য প্রকাশিত হয়েছিল—যেখানে বলা হয় যে তালেবান-ঘনিষ্ঠ এক উচ্চপদস্থ নেতা “৪০০০ আত্মঘাতী সদস্য” থাকার কথা উল্লেখ করে পাকিস্তানে পাঠানোর হুমকি দিয়েছেন।
এর মধ্যে ১২০ জনকে করাচি, ইসলামাবাদ, পিন্ডি ও লাহোরের জন্য পাঠানো হয়েছে—বিভিন্ন উপায়ে এর সত্যতা নিশ্চিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
আর কিছুদিন আগে ইসলামাবাদে যে হামলার ঘটনা ঘটেছে—তা সেই পরিকল্পনারই একটি শাখা বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। কারণ ইসলামাবাদের সেই ঘটনার পূর্বে তারা ঘোষণা দিয়েছিল—“আমরা ইসলামাবাদেও হামলা করবো।”
এটা স্পষ্ট—সেখান থেকে তারা কোনো মিসাইল ছুঁড়তে পারবে না, যদিও অনেকে বিভিন্ন কথা বলে। বাস্তবতা অনুযায়ী তাদের কাছে এখনো সে ধরনের কোনো অস্ত্র নেই। তাদের ‘মিসাইল’ হলো আত্মঘাতী হামলাকারীদের পাঠানো।
আফগানিস্তানের একজন মন্ত্রী শের মোহাম্মদ আব্বাস স্তানিকজাই এক বিবৃতিতে বলেছেন—“তোমাদের কাছে যদি অ্যাটম বোমা থাকে, আমাদের কাছেও অ্যাটম বোমার চেয়ে শক্তিশালী জিনিস আছে”; এবং তিনি আত্মঘাতী বোমারুদেরকেই ‘অ্যাটম বোমা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
আর গত বছর পাকিস্তান TTP-এর উপর হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ১১, ১২ অক্টোবর আফগানিস্তান পাকিস্তানের সীমান্ত এলাকায় আক্রমণ করার পর থেকে—তো এই বিষয়ে আর গোপনীয় থাকার কিছু নেই, প্রকাশ্যেই এসে গেছে।
দ্বিতীয় বিষয়: TTP ইসলামী জিহাদ করা সম্পর্কে
এ বিষয়ে প্রথম কথা হলো টিটিপির (TTP) সম্পর্কে পাকিস্তানের শত শত আলেম তাদের যুদ্ধে অংশগ্রহণকে নাজায়েজ ও হারাম ঘোষণা করেছেন, এবং তাদেরকে বিদ্রোহী খওরাজ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।
২০০৯ সালে জামিয়া শরফিয়ায় যে বৈঠক হয়েছিল, সেখানে দুইশত আলেম একত্রিত হন। তারপর এর ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এই দুইশত আলেমের মধ্যে বড় বড় ব্যক্তিত্ব ছিলেন, সারা পাকিস্তান থেকে আলেমরা এসেছিলেন। সেখানে ঘোষণা করা হয় যে আমরা সকলে মিলে ঘোষণা করছি—পাকিস্তানের ভেতরে অস্ত্র তুলে নিয়ে যুদ্ধ করা নাজায়েজ ও হারাম।
এরপর পয়গামে পাকিস্তানে সকল মাসলাকের সকল আলেম এই ব্যাপারে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিবৃতি দিয়েছেন যে টিটিপি বিদ্রোহী, পাকিস্তানের মধ্যে তাদের যুদ্ধ হারাম ও নাজায়েজ।
আর দ্বিতীয় কথা হলো: যেই TTP শত শত আলেমকে শহিদ করেছে এবং হাজারো মসজিদ-মাদরাসায় হামলা চালিয়েছে, হাজারো নিরপরাধ বেসামরিক মানুষকে হত্যা করেছে, তার পরও যদি তাদের হামলাকে আপনার শরঈ জিহাদ বলেন, তাহলে আপনি কোন শরিয়তের কথা বলছেন, বুঝে আসছেনা।
তৃতীয় বিষয়: পাকিস্তান-আফগানিস্তান সম্পর্ক খারাপের ক্ষেত্রে দায় কার?
প্রচলিত ধারণা হলো—পাকিস্তান আফগানিস্তান সংঘর্ষে বেশি দোষে দায়ী, পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠানগুলো। সাধারণ থেকে বিশেষ—সবার মুখে এই কথা শোনা যায়। সকলই বলেন—“পাকিস্তান দায়ী, পাকিস্তান এ কাজ করেছে।”
কিন্তু পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী দেখা যায়—বিষয়টি একপাক্ষিক নয়, দ্বিপাক্ষিক। এক্ষেত্রে পাকিস্তানের দোষ তো প্রসিদ্ধই, যে পাকিস্তান বিশ্বের সামনে ঘোষণা করেছে যে আমরা ন্যাটোর সহযোগী। এই সমস্ত বিষয়গুলো প্রসিদ্ধই, বলার অপেক্ষায় রাখে না। কিন্তু তার সঙ্গে পাকিস্তান অনেকটা এই ত্রুটির পরিপূরণও করেছে।
প্রথম কথা: যুদ্ধের সময় তালেবানদের বড় বড় কমান্ডার সকলকে পাকিস্তান আশ্রয় দিয়েছে। তাদের জন্য পাসপোর্ট বানানো হয়েছে, ভিসা দেওয়া হয়েছে। তাদের সমস্ত সেবা ও ব্যবস্থা পাকিস্তান দ্বারা তৈরি হয়েছে।
আফগানিস্তানে তালেবানদের শুরা সদস্য প্রায় পঁচিশ জন, তারা পাকিস্তানেই থাকতেন, তাদের সন্তানদের সঙ্গে। চৌত্রিশ গভর্নররা পাকিস্তানে থাকতেন। মন্ত্রিপরিষদ, প্রস্তাবিত সরকার—এগুলো আগে থেকেই স্থাপিত ছিল, পাকিস্তানে। তাদের ষোল জন মন্ত্রী, ষোলটি বিভাগও পাকিস্তানেই থাকত। বত্রিশজন গভর্নর ও পাঁচশো সামরিক কমান্ডাররা পাকিস্তানেই থাকতেন। প্রতিদিন তিন লাখ লোকের যাতায়াত ছিল।
আর তারা বিশ্রাম বা চিকিৎসার জন্য পাকিস্তানে ফিরে আসতেন। প্রতিটি মাসে তাদের চিকিৎসা চলতো পেশোয়ার ও অন্যান্য শহরে। বার্ষিকভাবে প্রায় ৫৪ হাজারেরও বেশি আহতদের চিকিৎসা পাকিস্তানে হতো। পেশোয়ার, পেস্লাওয়াট, লাহোর—সব জায়গায়।
এবং পাকিস্তান হাজারও আফগান শরনার্থীদেরকে জায়গা করে দিয়েছে, তাদেরকে পাকিস্তানের ন্যাশনালিটি দিয়েছে, এবং তাদের জন্য স্পেশাল এনআইডি কার্ড বানিয়ে দিয়েছে।
===আপনি দেখতে পারেন এখনো পাকিস্তানে ৪৪ লাখের বেশি আফগানি রয়েছে।
আফগানিস্তানের যুদ্ধ চলাকালিন সময় যত টাকা বা আন্তর্জাতিক যোগাযোগের প্রয়োজন হতো, পাকিস্তান পক্ষ থেকে করা হতো। দোহা চুক্তি, যা আমেরিকার সঙ্গে হয়েছিল, প্রায় ১৬৫টি বৈঠকের পর অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পাকিস্তান এটি আয়োজন করেছিল। সেখানে পাকিস্তানের তখনকার আর্মি চিফ জেনারেল বাজওয়া এবং এখানকার প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি যুক্ত ছিলেন।
তৃতীয় কথা: আফগানিস্তানে যুদ্ধ চলাকালীন অবস্থায় পাকিস্তান তাদেরকে অনেক অর্থ সহযোগিতা করেছে। এর প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য হচ্ছে মুফতি রফি উসমানি ও মুফতি তাকি উসমানি সহ অনেক বড় আলেম। কারণ তাদের পরামর্শক্রমেই পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রথম অর্থ সহযোগিতা তালেবানের কাছে পৌঁছেছে।
চতুর্থ কথা: এত বড় আকারের হামলা সম্ভব নয় স্থানীয়ভাবে সহায়তা ছাড়া। হামলার জন্য মাসের পর মাস প্রস্তুতি লাগে, রেকি হয়, হামলাকারীদের অবস্থান প্রয়োজন, রূপোষের জন্য জায়গা প্রয়োজন, অর্থ, উদ্দীপনা—এসব সব পাকিস্তানে ঘটছে।
সুতরাং, এটা ঠিক যে পাকিস্তান ন্যাটোর সঙ্গে সহযোগিতা করেছে। কিন্তু এটা ও ঠিক যে পাকিস্তান তালেবানকেও সমর্থন করেছে। আর আফগানিস্তান বিজয়ী হওয়ার পর থেকে পাকিস্তান সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে তালেবানদের সঙ্গে সমঝোতা করতে, কিন্তু প্রতিবারই তালেবানের কিছু উচ্চ কর্মকর্তার হটকারিতা তা হতে দেয়নি।
এই চার বছরে পাকিস্তান ৮০০টির বেশি বৈঠক করেছে তাদের সাথে। ২০০টির বেশি চিঠি ISI তাদের কাছে পাঠিয়েছে। ১৭০টির বেশি আলোচনা হয়েছে, বড় বড় অনেক আলেম পাঠানো হয়েছে, মাওলানা ত্বাকি উসমানি সাহেব, মাওলানা ফজলুর রহমান সাহেবকে।
এ সমস্ত বিষয়গুলো থাকা সত্ত্বেও যদি আমরা চোখ বন্ধ করে বলি—সব দোষ পাকিস্তানের, সবকিছুর জন্য দায়ী পাকিস্তান, তাহলে তো আর কিছু বলার নেই।
পাকিস্তান-আমেরিকা সম্পর্ক নিয়ে প্রথম কথা: যদি পাকিস্তান আমেরিকার সাথে সমঝোতা করার কারণে দারুল ইসলাম খারেজ হয়ে যায় এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা জায়েজ হয়ে যায়, তাহলে আফগানিস্তান গুজরাটের কসাইখ্যাত নরেন্দ মোদির সাথে সমঝোতা করে এবং আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্কিত, ভারতের অবৈধ দখলকৃত জম্মু কাশ্মীরকে—যার জন্য কাশ্মীরের মুজাহিদগণ শত বছর ধরে জিহাদ করে যাচ্ছেন—ভারতের অংশ হিসাবে ঘোষণা করে, ইন্ডিয়ার সাথে সামরিক চুক্তি করার কারণে আফগানিস্তানের কি হুকুম হবে?
দ্বিতীয় কথা: পাকিস্তান আমেরিকার থেকে অর্থ সহযোগিতা নেওয়ার কারণে আমেরিকান দারুল ইসলাম হয়ে গেলে, তো আফগানিস্তান বার্ষিক আমেরিকা থেকে প্রায় $755 মিলিয়ন —যা পাকিস্তানকে করা মার্কিন অর্থ সহযোগিতার থেকে 4.5 গুণ বেশি—সহায্য গ্রহণ করার কারণে আফগানিস্তানের ব্যাপারে আপনি বা আপনারা কি বলবেন?
সবশেষে বলা যায়, বর্তমান আফগানিস্তান–পাকিস্তান পরিস্থিতিতে একতরফাভাবে কোনো পক্ষ নেওয়া সহজ নয়। সমস্ত দায় একপক্ষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়,,
বর্তমান বিশ্বে ৫৭টি মুসলিম দেশের মধ্যে (অর্থাৎ Organisation of Islamic Cooperation-বা OIS এর সদস্য রাষ্ট্রসমূহ) মাত্র চারটি দেশের সরকারি নামের সঙ্গে “Islamic / ইসলামিক” শব্দ রয়েছে। এই চারটির মধ্যে একটি হলো Pakistan। অন্য তিনটি হলো ইরান, আফগানিস্তান, এবং মোরতিনিয়া।
দেশের নামের মধ্যে “Islamic” শব্দ সংযোজন কোনো সাধারণ বা আনুষ্ঠানিক বিষয় নয়; এটি রাষ্ট্রের আদর্শিক পরিচয় ও ঘোষিত দিকনির্দেশনার প্রতীক।
পাকিস্তানের ক্ষেত্রে, সংবিধানের ২ নম্বর অনুচ্ছেদে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি ২২৭ নম্বর অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে কোরআন ও সুন্নাহর বিরুদ্ধে কোনো আইন প্রণয়ন করা যাবে না, এবং বিদ্যমান আইনসমূহকেও ইসলামের বিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে। যদি কখনো কোরআন-হাদিস বিরোধী কোনো আইন পাস হয়, তবে তা সংশোধন বা বাতিলযোগ্য হবে।
এ উদ্দেশ্যে পাকিস্তানে একটি স্বতন্ত্র শরিয়াহভিত্তিক আদালত প্রতিষ্ঠিত আছে, যার নাম Federal Shariat Court (وفاقي شرعي عدالت)। এই আদালত আইনসমূহ পরীক্ষা করে দেখতে পারে সেগুলো কোরআন ও সুন্নাহর পরিপন্থী কি না। যদি কোনো আইন শরিয়াহবিরোধী ঘোষণা করা হয়, তবে সরকার বাধ্য থাকে তা সংশোধন বা বাতিল করতে। এই আদালতের সর্বোচ্চ ক্ষমতা রয়েছে আইন বাতিল করার।
এসব বাস্তবতা—রাষ্ট্রের নাম, সংবিধানের স্পষ্ট ধারা, এবং শরিয়াহ-সম্মত আইন যাচাইয়ের জন্য পৃথক আদালতের অস্তিত্ব—থাকা সত্ত্বেও, কেউ যদি বলে যে পাকিস্তান কুফরি রাষ্ট্র, তাহলে আফসোস ছাড়া কিছুই করার নেই।

Post a Comment

Previous Post Next Post