জিন্নাহর ভাষণের সত্যতা




১৯৪৮ সালে কার্জন হলে এক ভাষণে জিন্নাহ বলেছেন - "উর্দু, একমাত্র উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা।" সবাই "না, না" করে চিৎকার করে উঠেছিল।"

আপনি কাটপিস এইটুকু পড়েছেন। কিন্তু পুরো বক্তব্যটি কি কখনো শুনেছেন? বাকি অংশ গোপন রাখা হয়। বাকি অংশে বলা হয়েছে-
Whether bengali shall be the official language is a matter of the elected representative of the people of this province to decide. I have no doubt that this question shall be decided solely in accordance with the wishes of the inhabitants of this province at the appropriate time.
অর্থাৎ, জনগণের ইচ্ছা অনুযায়ী, স্কুল কলেজে বাংলায় বই পুস্তক পড়া হবে, অফিস আদালতে অফিশিয়াল ভাষা হিসেবে বাংলা চলবে- এই কথাগুলো জিন্নাহ বলে গেছেন। এরপরে আর কোন "না, না" প্রতিবাদ নাই, শুধু হাত তালির আওয়াজ। ইউটিউবে সম্পূর্ণ বক্তৃতা আপলোড করা আছে। Jinnah speech in Dhaka লিখে সার্চ দিলে পেয়ে যাবেন।
পাকিস্তানীরা নাকি জোর করে বাঙালীদের ওপর উর্দু চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল। ওরা নাকি আমাদের মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়।
হাস্যকর অভিযোগ।
পশ্চিম পাকিস্তানে বাস করে পাঞ্জাবী, পশতুন, সিন্ধি, বেলুচি জাতিগোষ্ঠী। তাদের মাতৃভাষা যথাক্রমে পাঞ্জাবী, পশতুন, সিন্ধি, বেলুচি ভাষা। উর্দু তো পশ্চিমের কারও মাতৃভাষা নয়। এমনকি জিন্নাহর নিজের মাতৃভাষাও উর্দু নয়, গুজরাটি। তো যে ভাষা তাদের নিজেদের মাতৃভাষা নয়, সেটা কি করে অন্যের ওপর চাপাবে?
আর মুখের ভাষা কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ তো আরও হাস্যকর। ভারতের অফিশিয়াল ভাষা হিন্দি + ইংলিশ। পশ্চিমবঙ্গের বাঙালীরা কি সবাই হিন্দিতে কথা বলতে বাধ্য হয়েছে? পশ্চিমবঙ্গের বাঙালীদের মুখের ভাষা কি কেড়ে নেওয়া হয়েছে? না, তাদের কোন সমস্যা হয় নি। মধ্যযুগে ৭০০ বছর ধরে, মুসলিম শাসন আমলে, সম্পূর্ণ অখন্ড বাংলার দাপ্তরিক ভাষা ছিল ফারসি। তখন কি বাঙালিদের মুখের ভাষা কেড়ে নেয়া হয়েছিল? বাঙালীরা কি ফারসিতে কথা বলতে বাধ্য হয়েছিল? না, তেমন কিচ্ছু হয় নি। মুখের ভাষা কেউ কারোটা কেড়ে নিতে পারে না৷
তাহলে ভাষা আন্দোলনটা হয়েছিল কেন? সাধারণ ছাত্রদের আন্দোলনে উস্কে দিলো কারা? উত্তর খুজতে আরেকটু গভীরে জানুন। ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ২ তারিখ,
ভারত-পাকিস্তান দুইটা দেশই জ্বলছে দাঙ্গার আগুনে, বিশেষ করে ভারতের মুসলমানদের কচুকাটা করা হচ্ছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মুসলমান এক কাপড়ে চলে আসছে। ঢাকা, করাচী, রাজশাহী, পেশোয়ার, চট্রগ্রামসহ পাকিস্তানের সব বড় শহরের স্কুল, কলেজের মাঠে তাবু টানিয়ে থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছিলো এইসব শরণার্থীদের। ঠিক সেই সময়ে, দেশ ভাগ হয়েছে মাত্র ১৮ দিন, কতিপয় কমিউনিস্ট বরাহ শাবক কংগ্রেস নেতাদের টাকা খেয়ে আন্দোলন শুরু করে "রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই"। তারা সংগঠনের নাম দেয় তমুদ্দুন মজলিস। ইসলামি গোছের নাম দেওয়া হয় সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে। ফারসি নাম, কিন্তু সংগঠনটি চালাতো মূলত হিন্দুরা। ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত, বসন্ত কুমার দাস, মনোরঞ্জন ধর, প্রভাস চন্দ্র লাহিড়ী; এরা ছিল ভাষা আন্দোলনের অর্থের মূল যোগানদাতা। তমুদ্দুনের পত্রিকা সৈনিক বিনা পয়সায় ছাপিয়ে দিতো তাদের প্রেস। এরা সবাই ছিল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতা। তারা সবাই উগ্রভাবে ভারত ভাগের বিরোধিতা করেছিলো।
বাঙ্গালীরা বাঙলার জন্য প্রাণ দেয় ভারতের আসামে ১৯৬১ সালে। অসমীয়া ভাষাকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার প্রতিবাদে সেখানকার বাঙ্গালীরা ১৯ মে হরতালের ডাক দেয়। শান্তিপূর্ণ হরতাল পালনকালে শিলচর রেলওয়ে স্টেশনে পুলিশ ১১ জন আন্দোলনকারীকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে। কিন্তু এই ঘটনা আর প্রচার হয় না। ২১ শে ফেব্রুয়ারীর মত এইদিনে প্রতিবছর শহিদ মিনারে ফুল দেয়া হয় না। সুকৌশলে "বাঙালী জাতীয়তাবাদ" চাপিয়ে দেয়া হয়েছে শুধু পূর্ব বঙ্গের মুসলমানদের ওপর।

Post a Comment

Previous Post Next Post